সৌমিতা চট্টরাজের কবিতাগুচ্ছ

আর যাই হোক কবিতা নয়...


১. 

ডিসেম্বর আসলেই কুয়াশা হয়ে যাবে আমার সমস্ত অপারগতা। 
এখন নভেম্বর, আপাতত বিপ্লব হচ্ছে।
বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু আমি এখনো কবি নই।
বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু এখন কবি ইজ ইকুয়াল টু শূকরীর প্রসব মাইনাস ভারতমাতার ঊরুসন্ধি। 
বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু আমার এখনকার প্রেমিকের প্রাক্তন প্রেমিকার নাম ছিলো কবিতা...
বিছানায় তুলতে পারে নি তাই বাজারে নামিয়ে ছেড়েছে।

২.

অপ্রকাশিত বলে কোনো কিছু বাকী নেই আর।
কি দেবো তোমাকে হে তরুণ কবি! 
আইবুড়ো গর্ভগৃহ! রন্ধনশাল! 
মনে রেখো, তুমি শালা গার্হস্থ্য খেদানো কুকুর, 
মা হয়ে রোদ খালি আগলে রাখে...
তোমার ছায়া, তোমার আড়াল।

৩.

কথা হচ্ছিল মৃত্যু দৃশ্য নিয়ে।
দুই আঙুলের দূরত্ব বাড়িয়ে জুম করলাম ছবিটা।
বিলিতি ব্র‍্যান্ডের বোতল, একের অধিক পুরুষ আর টালমাটাল হরফ সাঁতরে  রবীন্দ্রনাথ উৎরোতে চাইছি আমি...
যথারীতি সাংস্কৃতিক শামুকে পা গেঁথেছে আমার।
অতএব
দৃশ্যটার বাইরে বেরোতে পারছি না
দু'আঙুলের দূরত্ব কমাতেও পারছি না।

৪.

ভাবমূর্তি নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন তোলেন যারা
তাদের সামনে পোশাক খুলে দাঁড়াতে লজ্জার কি আছে আর!
বরং ভয় পাও হাত পা জিভ খুলে দাঁড়াতে
বরং ভয় পাও সেই পায়রার ঝাঁকটা কে হারিয়ে ফেলার...
খুদ খেতে খেতে অন্তত তোমাকে যারা মানুষ ভাবে।

৫.

কোনো এক ভেড়ার সুবাদেই দেবতা টি কে চেনা হয়েছিল।
ছবিতে দেখেছি যাকে নরম কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। 
সেই থেকে সেই ভেড়ার পিছনে ধাওয়া করছি আমি।
ভেঙে ফেলছি পাহাড়, উপত্যকা...
এদিকে ভেড়াটি দিব্যি চোখ বুজে মুখ লুকোচ্ছে দেবতার বুকে।
 ভাবছে পৃথিবী তাকে দেখতে পাচ্ছে না।
আর পৃথিবী দেখছে 
দেবতার দাঁতের ফাঁক দিয়ে জলজ্যান্ত একটা দানব ঝরে পড়ছে।

মন্তব্যসমূহ

পাঠকপ্রিয়

সেলিম মণ্ডলের গুচ্ছকবিতা

সোনালী চক্রবর্তীর কবিতা

সৌভিক গুহসরকারের কবিতা

মধুমিতা রায়ের কবিতাগুচ্ছ