পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সম্পাদকীয়...

সম্পাদকীয়... আজ আলোয় আলোয় সেজে উঠেছে চারপাশ। কতটুকু আলো ? এ আলো কতদূর যায়? সুদূর মফস্বল থেকে ছুটে আসে আজ প্রদীপ বিক্রেতা'র দীর্ঘশ্বাস! কান্নায় ভেসে যাচ্ছে অজস্র করোনা আক্রান্ত দৈনিক কাজ করা শ্রমিকের পরিবার। টানা চোদ্দদিন গৃহবন্দীতে ক্ষুধায় পুড়ে যাচ্ছে পেট... তবু উৎসব আসে। অন্ধ ঘাসের গায়ে শীত পড়ে। ঘর ভাঙে। পুড়ে যায় মনও। আমরা যারা সাহিত্যে বাঁচি, নিজেদের পাগলামি নিয়ে মাতামাতি করি গোটাবছর, এ উৎসবের দিনেও তারা নিজেদের মাতলামি আঁকড়েই থাকতে চাই। কবিতা-গান-নাটক নানান শিল্প নিয়ে একধারে উৎযাপন করি 'আমাদের উৎসব'। প্রকাশিত হলো প্ল্যাটফর্ম পত্রিকার অনলাইন সংখ্যা ' আমাদের উৎসব'। হে পাঠক, এ উৎসব মেখে নিন নিজের গায়ে। সৌরভ মাহান্তী।  ১৪ নভেম্বর ২০২০। সন্ধ্যে ৭ টা।

অনুশ্রী যশের কবিতা

ভাসান ভিতরে ভিতরে বেড়ে ওঠে একটা গ্রাম । এই সময়গুলোতে ঘুমিয়ে পড়তে হয় ফাঁকা আটচালাটির মতো । বহিরাগত অন্ধকার ঘুমোলে আমি ল্যাম্পপোস্ট হয়ে যাই। প্রিয় রাস্তার মোড়ে ঝুঁকে থাকে মাথা। তারপর উৎসবে মেতে ওঠে পাড়া। ভাসানেও নাচে খুব। মূর্খের দল সব! তুলে আনে অস্ত্র। সৃষ্টিকথা   পৃথিবীর পথে হেঁটে যাই   অপেক্ষা- একটা গলে যাওয়া চাঁদ  মাটি ছোঁয়া আঁচল নাকি চুল  বয়ে নিয়ে চলে এক একটা যাপন।  হেঁটে চলি। পৌঁছে যাই।  এ শরীর প্রেমভূমি  অন্ধকার- সে এক জন্মকথা দৃশ্যহীন ঘ্রাণহীন ভ্রূণেদের।  অঘোরপন্থী প্রেমিক গেয়ে চলেছে আবহ সঙ্গীত টান পড়েছে সৃষ্টিযন্ত্রের তারে  সৃষ্টি - সে তো নারী  স্তনের বৃন্তে মহাবিশ্ব সংসার ।     

রবিন বণিকের কবিতা

আলো এক রহস্য আত্মহত্যার কারণ হিসেবে লেখা হল... পদার্থ আর অপদার্থের মধ্যে যে সুক্ষ্ণ গ্রহণ ছুঁড়িবিদ্ধ শিলাখন্ডে যে ছায়ার শুকনো দাগ যোগ্য নখের ভেতর যে জনপদের শব্দ সমস্ত প্রমাণে বোঝা গেল ঘটনাটি আত্মহত্যা  তবে স্পষ্ট জানা গেল না এটি হত্যা কিনা ভেতর আর বাহিরের মধ্যকার  অর্ধউন্মোচিত দরজাটি দিয়ে এযাবৎ কেউ লন্ঠন এগিয়ে দেখার চেষ্ঠাই করেনি শূন্যের আগে কতগুলো অনুচ্চারিত ফুল লিপিবদ্ধ করেছিল ঘর... ব্যক্তিগত   ব্যক্তিগত  থেকে  উড়ে  গেল  বাস্তবিক  চড়ুই  সীমাবদ্ধতা  একটা  কমলা  রঙের  আলো              দীর্ঘ  অথচ  ক্রমশ  ক্ষয়ের  মতো  চড়ুইদের  কোনো  নাম  নেই,  ওরা  একে  অপরকে  “টুকাই”  নামে  ডাকে তুমি  না  জেনেই  ডেকে  বসলে  চড়ুই কিছু  না  বুঝে  উড়ে  গেল  উড়ে  গেল,  ওরা  জানে   ব্যক্তিগত  থেকে  উড়ে  যাওয়া  এক  বিমূর্ত  নদীর  রহস্য...

তিতাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

কিস্তিমাত   ---- এবার আর সিঁড়ি তাকে ওঠাল না।  হোঁচট খাওয়াল।  হোঁচট খেয়ে,হাওয়ার উপর অভিমান করা কাটা ঘুড়ির মতো ঘুরে ঘুরে নেমে আসত থাকল সে,নিচে! মাটির আঁচল পেতে এক অসামান্যা রমণী তার পতন লুফে নিল। রমণীর চোখে হেমন্তকন্যারা প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে। চুল সাজিয়ে দিয়েছে ধানের গুচ্ছে। স্তনের স্বচ্ছ মাঠে খেলে বেড়াচ্ছে দৈব সন্তান। মানুষ, ন্যুব্জ মানুষ চেষ্টা করে চলেছে ওই সন্তানদের হাত থেকে খেলার সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার!  যতবার চেষ্টা করছে,ততবারই কেউ না কেউ হোঁচট খাচ্ছে,পড়ছে!  নাগরদোলা সংসার একবারও কিস্তিমাত করতে পারছে না। হায়!

সুপ্রসন্ন কুণ্ডুর কবিতা

পাখিরালয়   ১. একা  মানুষের জন্য  নিঃসঙ্গ  রাস্তার হয়ে              পাখি কথা বলে  সাড়া নেয় সতীর্থের, সংকেত পাঠায়  একা  পাখির জন্য  নিঃসঙ্গ  গাছের নিচে               মানুষ শুয়ে থাকে  ফেলে আসে পন্ডশ্রম, ভাব বিনিময়  ছায়ার প্রকারভেদে দুজনেই মুখচোরা ভিন্ন খাঁচায়  ২.  একটা পাখির মৃত্যু ঘিরে  হই       হই           হুস               হাস  অন্ধকারে ঘিরে আছে, শহরের প্রাণ  আলোর প্রবল ঝোঁক                            ঢঙ                        ঢঙ                 খুট           খাট ভাগে শোক , বন্ধ্যা সকাল  বিপদ আসলে পাপ,  সময় চেনে না  দরজা ডিঙিয়ে আসে, উড়ে যা...

সেখ সাদ্দাম হোসেনের কবিতা

প্রিয় ডালিমগাছটি তোমার নাম কি? মেয়েটি ভয়ে ভয়ে বললো- রুকসনা খাতুন। (মেয়েটির দুপাশে তার চাচা, স্বাস্থ্যবান ভাই আর বুড়ো বাপ দাঁড়িয়ে আছে) মাধ্যমিক পাশ করেছ? চুলটা একটু খোলো তো দেখি! বাহ বেশ সুন্দর। তা কি কি করতে পারো মা? তৎক্ষণাৎ পাশ থেকে চাচা উত্তর দিলো- হ্যাঁ, সে আর বলতে রান্না করা, বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার, সব.. বেশ বেশ। মা, পায়ের কাপড়টা একটু সামান্য তোলো তো দেখি! -- তোমার হাতটা, পায়ের মতো অত ফর্সা নয়। মেয়েটি বুড়ো বাপের দিকে তাকাচ্ছে। চোখ টলটল করছে তার বুড়ো বাপ মরার আগে মেয়ের একটা সঙ্গতি করতে চায়। শুনেছে পাত্রপক্ষ বেশ ধনী মেয়েটি একটা হাসপাতালের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কেউ শুনতে পাচ্ছে না, মেয়েটি তারস্বরে চিৎকার করে বলছে- আমার গায়ের রঙ কালো। আমি মাছ আঁকতে পারি। আমি মাছরাঙা সাজতে পারি গাছের ওড়নায় ছোঁয়াতে পারি জোনাকির মাতন                                                  রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে পারি                   ...

পঙ্কজ চক্রবর্তীর কবিতা

শেষরাতের ছায়া রচনাপদ্ধতির মতো তুমিও দিনের শেষে অনেক অতৃপ্তির রং নিয়ে বাজারে এসেছ। তখনও ধানিজমির বুক চিরে  তৈরি হয়নি রেলব্রিজ। দু-একবার সামান্য মাপজোখের খবর পেয়ে বসেছে দোকান। নিরপেক্ষ খাপ পঞ্চায়েত। তারপর জমির দাম বাড়তে শুরু করল রাতারাতি। পাকা রাস্তা। ছোটো টিকিট ঘর। দিনে রাতে চার পাঁচটা ট্রেন দাঁড়ায়। বন্ধ টিকিট কাউন্টারের পাশে সন্ধ্যার জুয়ার আসর থেকে উঠে এল এই অঞ্চলের প্রথম যুবনেতা। তুমি সেই বাড়ির ছোটোবউ। লেখাপড়াও জানো। তবুও অতৃপ্তির রং মেখে খুলেছি দোকান। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চাইছি অবলুপ্ত জমির রহস্য।আজ এতদিন পর পাখির খাঁচায় বসে ব‍্যর্থ প্রেমের অপরাধ স্বীকার করতে এলাম। স্টেশন মাস্টার, আপনার চোখের ভিতরে সামান্য পথের হদিস পেলে আমি বেরিয়ে পড়ব আজ রাতে।রেলব্রিজের ওপারে সাড়ে নটার  শেষ বাস। ধুলোধোঁয়ার ভিতর পড়ে রইল মাত্র বারো বছরের একটা ভাঙাচোরা দোকান।এইসব রচনাপদ্ধতি নিয়ে  একদিন খুঁজে পাবে ফাঁকা বোয়ামের অসুখ। তোমার অনর্থক হাসির ভিতর জন্ম নিচ্ছে অদৃশ্য একটা শহর।অন্ধকার গলিতে গর্ভপাতের সুলভ ক্লিনিক। এই এক ঘুমন্ত মরশুম। যখন বিষণ্ণ ওড়নার ভিতর শুয়ে থাকে চায়ের দোকান, জুয়ার আসর,ম...

চিরঞ্জিৎ সাহার গল্প

হাঁস নিয়ে হইচই  সকাল থেকেই কৈলাস জুড়ে আজ মহাকেলেঙ্কারি । স্নান সেরে নিজের বই, খাতা সযত্নে ব্যাগে গুছিয়ে নিয়ে স্কুলে যেতে প্রস্তুত সরস্বতী কিন্তু খোঁজ নেই তার বাহন হাঁসের । একেই আগামীকাল মাঘ-পঞ্চমী তিথিতে মামাবাড়ি যাওয়ার কথা মেয়েটার , স্কুলটা কামাই হবে দু'দিন ; তার ওপর আজও যদি স্কুলে যেতে না পারে , বড় দিদিমণি রাগ করবেন ভীষণ । মেজাজ খারাপ থাকলে গার্জেন কলও করে দিতে পারেন । সবমিলিয়ে মুখেই বীণা বাজিয়ে ভ্যাঁ করে কান্না জুড়ে দিল চিন্তিত সরস্বতী ।  হাঁসের হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ঘন্টাদুয়েক আগে সর্বপ্রথম নজরে আসে মা দুর্গার । তিনি তখন সবে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যাচ্ছিলেন । রোজকার অভ্যেসমতোই একবার উঁকি দেন পাখিদের থাকার ঘরে । সেখানে পেঁচাকে বেঘোরে ঘুমোতে দেখলেও ময়ূর কিংবা হাঁসের দেখা পাননি তিনি । অবশ্য ব্যাপারটিকে তেমন আমলও দেননি । আসলে এ ঘটনা আজ নতুন নয় । শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার তোয়াক্কা না করে ফিগার কনসাস ময়ূর নিয়ম করে রোজ মর্নিং ফ্লাইটে যায় ভোর পাঁচটায় । তারপর কয়েক কিলোমিটার এদিক ওদিক উড়ে ফিরতে ফিরতে বেলা আটটা । হাঁসটাও ময়ূরকে সাথ দেয় মাঝেমধ্যেই ; তবে ভারী ডানা নিয়ে বেচারি উড়তে পারে না ব...

অঙ্কিতা সরকারের গল্প

তমসা হতে #প্রাক-কথন খুট করে একটা শব্দ হওয়ার সাথে সাথেই কাঠের দরজার ক্যাঁচ করে মৃদু একটা শব্দ হল। নিস্তব্ধ রাত্রির শান্তিকে সামান্য বিঘ্নিত করেই তা ক্ষান্ত হল অবশ্য। দরজা খুলে বেরিয়ে এলো একটি নারী মূর্তি। অন্ধকারে তার মুখ দেখা যায় না। শুধু চাঁদের সামান্য আলোয় তার আবছা অবয়ব দেখে তাকে নারী মূর্তি বলেই মনে হয়। চারপাশে একবার সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে সবকিছু দেখে সে নারী মূর্তি নিঃশব্দ অথচ দ্রুত পায়ে পথ চলতে থাকে। কদিন ধরেই গ্রামে বৃষ্টি হওয়ার ফলে মাটির পথ কর্দমাক্ত। পা সেই নরম কাদার তালে বসে যাচ্ছে! তবু সাদা থানে কাদা মেখেই সে নারী মূর্তি দ্রুত এগোতে থাকল। সমবেত স্বরে ডেকে উঠে একদল শেয়াল প্রহর শেষের ঘোষণা করল। রাত্রির নিস্তব্ধতাকে এভাবে খান খান হতে দেখে একবারের জন্য থমকে দাঁড়াল সেই নারী। কিন্তু তা ওই মূহুর্তমাত্রই। এই কাজে বাধা আসবেই। কিন্তু তাই বলে তাকে থেমে থাকলে যে চলবে না! থেমে গেলেই যে অভীষ্ট থেকে অনেক দূরে চলে যাবে সে! নির্দিষ্ট থানে উপস্থিত হয়ে কিছুক্ষণের জন্য থেমে শ্বাস নিল সে। বয়স হয়েছে, জোয়ান বয়সের মত তৎপরতা আর দেখানো চলে না। খানিক জিরিয়ে নিয়ে সে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল একটি নির্দিষ্ট দিক লক্...

সুমন সাঁতরার গল্প

শেষ দেখা ****** জৈষ্ঠের তপ্ত রোদে কান পাতলেই প্রকৃতির ত্রাহি ত্রাহি ধ্বনি শোনা যাবে l সেইরকম ঝলসানো একটি দুপুরে বিপিন ঘরের চৌকাঠে সূর্য অস্ত যাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে l বয়স হয়েছে, তাই রোদে চামড়া পোড়ার জ্বালা এখন আর সে সইতে পারে না l এতদিন সে কলকাতায় কর্মরত অবস্থায় কাটিয়েছে l একটা চায়ের গোদামে মাসিক চার হাজার টাকার বিনিময়ে যৌবন পেড়িয়েছে l তবে এখন আর সে পেরে ওঠে না, বয়সের সাথে সাথে শরীরের দুর্বলতা জানান দিয়েছে l গোদামের মালিক রমেন চ্যাটার্জী এখন তাকে আজীবনের জন্য বিশ্রাম দিয়ে দিয়েছে l বিপিন বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ফল তেমন হয়নি l অন্য কোনো জায়গায় কাজ না পেয়ে শেষে গাঁয়ের ভিটে মাটির কাছে ফিরে আসতে হয়েছে l সে ঠিক করেছে যে-কটাদিন জীবনের বাকি আছে চাষবাস করেই কাটিয়ে দেবে l এছাড়া আর কোনো উপায়ও নেই l  তাই আজ জমিটার কী অবস্থা দেখে আসবে ঠিক করেছে, বহুকাল হল তাতে ফসল ফলানো তো দূরের কথা পাও মাড়ায়নি সে l ইচ্ছা করেনি, সেটার কারণটা পরে জানা যাবে..  সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে অনেকটাই ঢলে পড়েছে তখন বিপিন গরু দুটোকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো l ওই জমি আর এই গরুদুটোই সম্বল এখন l এছাড়া ঘরে দুটো তো...

মোহিত তন্ময়ের গুচ্ছকবিতা

বিষণ্ন জ্যোৎস্নার পৃথিবী  ১.  যতটা আলো আমাদের শরীরে বিশ্বাস তৈরি করে, তার অধিক অন্ধকার। আমাদের ভাঙা টর্চ, ভিজে ব্যাটারির ফাঁপা জীবন, তিন টাকার ইতস্ততবোধ -- কীভাবে আজ ধূসর পৃথিবীতে আরও একটি কবিতা লিখে ফেলার মতো যথেষ্ট বেকারত্ব দিচ্ছে !  ২.  ঘুমের শরীরে চক টেনে কেউ একজন প্রসস্থ পথ এঁকে দিল। অপয়া পথিকের ছায়ায় পৃথিবীর সমস্ত রাজপথ এখন গতিহীন, গন্তব্যহীন। পরিত্যক্ত মদের বোতলের ভিতর রাত থেমে আছে। একটা মাঝবয়সী মেঘ  চাঁদ ওঠার সম্ভাবনা চিরতরে নিভিয়ে দিল। জ্যোৎস্না খেতে হারিয়ে গেল যে-শিশুটি তার শরীর ভর্তি অন্ধকার। নিখোঁজের সময়, পরনে ছিল, ছেঁড়া ঘুড়ির জামা ও ধূসর মেঘের প্যান্ট।  ৩.  প্রেম লেগে নেই, দু-ফোঁটা আদর গদ হয়ে লেগে আছে, আত্মহত্যার কথা মাথায় এলে এমন এক  গাছের কাছে এসে দাঁড়াই, ফুল নেই  ফল নেই  শুধু শুকনো পাতা খুঁজে নিচ্ছে একটি ছিঁড়ে যাওয়া প্রেমের সম্ভাব্য ভ্রমণ ...  ৪.  বেঁচে থাকার ভয়। বাঁচিয়ে রাখার ভয়। এমন কিছু আলগা ভয়ের গভীরে আমাদের পা বহুদিন হাঁটতে ভুলে গেছে। জুতো ও মোজার স্বপ্নে একটি পথ স্থানীয় বেশ্যাখানা পর্যন্ত গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে...

ইমন ভট্টাচার্যের গদ্য

সত্তার যাত্রাঃ মেলাঙ্কলিয়া থেকে সিজোফ্রেনিয়া সেই কবে এইচ. এস. -এ পড়তে পড়েছিলাম ‘সলিটারি রিপার’ কবিতাটা। “Stop here or gently pass”। একটি মেয়ে পার্বত্য উপত্যকায় গান গাইছে। একাকী মেয়েটিকে দেখছেন কবি, শুনছেন তার গান। বুলবুলের চেয়েও মিষ্টি গলার সেই গান। তা কী গাইছে মেয়েটি- হয়ত কোনো পুরোনো যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির সন্তাপ, অথবা নিছক বর্তমানের কোন গান- “Some natural sorrow, loss or pain / That has been xxx may be again।” সেই গান শুনতে শুনতে আরও দূরের উপত্যকায় চলে গেলেন কবি, গান আর শোনা গেলনা, গান বাজতে থাকল তার হৃদয়ে। ভাবার কথা, এই গানটিকে melancholy’ বলে বিশেষিত করেছেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ। এই melancholy  বা কোমল বিষাদ রোমান্টিক সাহিত্যের একটি কুললক্ষ্মণও বটে। আমরা এই প্রবন্ধে এই মিলানকোলি- কে চিহ্নিত করার চেষ্টা করব, খোঁজার চেষ্টা করব বারংবার, কীভাবে ধারণাটি ক্রমবিবর্তিত হয়েছে ইতিহাসের পর্বে। রোমান্টিকতার আগের যুগে যাকে বলে প্রি- রোমান্টিসিজম- সে যুগে আসন্ন রোমান্টিকতার কতগুলি লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছিল। তার মধেয় একটা হল সেনসিবিলিটি। সেনসিবিলিটি এক ধরণের তীব্র স্পর্শকাতরতা। মানসিক আবেগ, প্রক্ষোভএর বাড়াবাড়ি...

সেলিম মণ্ডলের গুচ্ছকবিতা

আমৃত্যু ১ জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে টস হলে মৃত্যুই বারবার জিতে যায়। পছন্দ মতো মাঠে নামে। তারপর ট্রফি নিয়ে চলে যায় বাড়ি... ২ একটি লাশ কালো কাপড়ে মোড়ানো থাকবে না সাদা কাপড়ে সেটা ঠিক করে দেয় রাষ্ট্র। তবে যে কাপড়েই মোড়ানো থাক মুখ দেখা যায় না। ৩ কারো যোনি কাটা, কারো স্তন কাটা, কারো জিভ কাটা... সবাই একই মিছিলে; আমাদের ঠিক করে নিতে হবে কে জীবিত, কে মৃত, কে খুনি, কে ধর্ষক... ৪ চুপ থাকাটাই শ্রেয়, না হলে তার ঝকঝকে দাঁতে লেগে থাকা টকটকে রক্ত দেখা যাবে... ৫ প্রতিটি সিরিয়ালে মিডিয়া অথবা প্রশাসন  সফল অনুবাদক। বীজ সমস্ত সম্ভাবনার ভিতর তুমিই গাছ রোদ শিকার করবে বলে স্বীকার করে ফেলছ ছায়া ছায়া, তোমার থেকে বড়ো জেনেও, তুমি পাতায় পাতায় ডালে ডালে আত্মমগ্ন ধ্যান ভাঙবে বলে আবার নিঃশব্দে রোপণ করছ বীজ

আলিউজ্জামানের কবিতা

প্রাক্তন শরীর থেকে মূল্য না চুকিয়ে সাবানের বুদবুদ, আর কত কাঁপাবে অঘ্রানে, এই স্নানঘরে? গতরাতের সমস্ত এঁটো এখন ধুয়ে যায়, সকালের বাসনজলে। যেন স্নানশেষে ফাটলধরা এই অস্তিত্ব লকলক করে সাপের জিভে। যেকোনো শহরের মত যেকোনো ব্যস্ত আর ফাঁকির অন্তর্দিপায়, তবু জ্বলজ্বল করে সলতের আশিকি। তাকে কিভাবে আলাদা করবে এখন? এই হৃদয়ে যে দাগ কেটেছে, সেতো তুমিই।

জাতিস্মরের কবিতা

বিজ্ঞপ্তি কী প্রত্যাশা ও কবিতা স্নায়ু জুড়ে নিরাময় স্নানে জল পেয়ে জেগে ওঠে-- তুমি তার বাসনা সরিয়ে এবার রেখেছ হাত, ভেঙেছ দর্পন-- যৌনসীমা                                              লঙ্ঘন করেনি ক্ষুধা প্রতিটি অক্ষর তবু গাত্রদাহ। তোমার অনিচ্ছা বেঁধে রেখে তৃষ্ণা নিবারণ ও প্রত্যাশা ছিন্ন ভিন্ন পালকের মত ওড়ে-- পাখির সহজ যাপনের                                              বিজ্ঞপ্তিতে তুমি নেই... সংসার পাখিদের জন্মরহস্য লুকিয়ে আছে এরকম অরণ্যপ্রবাদ অতিক্রম করে ভোরের দিকে গুটিয়ে যাচ্ছে সমস্ত শৌখিন উড়ে যাওয়া। এখানে এসে কেমন বিপন্ন হয়েছে ডানার অনতিক্রম্য বিস্ময়, ভিজে যাচ্ছে উড়ানমন্ত্র। জলের পাশে জল তার পরে সহজ স্থলভাগের অস্তিত্ব উপেক্ষা করার মতো ধ্যনমগ্ন অনস্তিত্ব রাখা হচ্ছে হাসির মধ্যে। তার ছায়ায় রোজ সূর্যের অস্তগান, পাখিদের সেই চূড়ান্ত ভঙ্গির পরেও কেমন উন্নাসিক মানবিক রথ...

সোনালী চক্রবর্তীর কবিতা

অনতিক্রম্য   দূরত্ব, একটিমাত্র শব্দ, অগণিত কবিতার জন্ম দিতে দিতে, যার কখনো নিজেকে অতিক্রম করা হয় না। যোগিনী অমা মর্ত্যের উর্বশী যখন ক্লিভেজের উল্কি নিপুণ  করতে মনোযোগী,  প্রতিসরণ কোনে আলো কোথায় ছিটকালে,  আমলা... গোলাম হবে,  আমি ইষৎ বিষন্ন,  হয়তো রক্তমাংসের গুনে প্রতিশোধ মাপি।  তারপর এক শ্মশান যাপন আসে,  স্রোত ফিরে গেলে তটভূমি ধারণ করে যোগীয়া নিরপেক্ষতা। ব্রক্ষকুম্ভে ধুনি জ্বলে, কমলবনে সারস্বত ছায়া,  আর রমনসুখ তুচ্ছ করে কবিতা নাজিল হয়।

সৌমিতা চট্টরাজের কবিতাগুচ্ছ

আর যাই হোক কবিতা নয়... ১.  ডিসেম্বর আসলেই কুয়াশা হয়ে যাবে আমার সমস্ত অপারগতা।  এখন নভেম্বর, আপাতত বিপ্লব হচ্ছে। বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু আমি এখনো কবি নই। বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু এখন কবি ইজ ইকুয়াল টু শূকরীর প্রসব মাইনাস ভারতমাতার ঊরুসন্ধি।  বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু আমার এখনকার প্রেমিকের প্রাক্তন প্রেমিকার নাম ছিলো কবিতা... বিছানায় তুলতে পারে নি তাই বাজারে নামিয়ে ছেড়েছে। ২. অপ্রকাশিত বলে কোনো কিছু বাকী নেই আর। কি দেবো তোমাকে হে তরুণ কবি!  আইবুড়ো গর্ভগৃহ! রন্ধনশাল!  মনে রেখো, তুমি শালা গার্হস্থ্য খেদানো কুকুর,  মা হয়ে রোদ খালি আগলে রাখে... তোমার ছায়া, তোমার আড়াল। ৩. কথা হচ্ছিল মৃত্যু দৃশ্য নিয়ে। দুই আঙুলের দূরত্ব বাড়িয়ে জুম করলাম ছবিটা। বিলিতি ব্র‍্যান্ডের বোতল, একের অধিক পুরুষ আর টালমাটাল হরফ সাঁতরে  রবীন্দ্রনাথ উৎরোতে চাইছি আমি... যথারীতি সাংস্কৃতিক শামুকে পা গেঁথেছে আমার। অতএব দৃশ্যটার বাইরে বেরোতে পারছি না দু'আঙুলের দূরত্ব কমাতেও পারছি না। ৪. ভাবমূর্তি নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন তোলেন যারা তাদের সামনে পোশাক খুলে দাঁড়াতে লজ্জার কি আছে আর! বরং ভয় পাও হাত পা জিভ খুলে দাঁড়াতে...

সৌভিক গুহসরকারের কবিতা

রাধানগর ঘরে শুধু নুন আর জল, তবু এ অন্নপূর্ণা সমুদ্রিকার রূপের শেষ নেই। এইখানে, সাদা বালির চরে বসে মনে হয়, মাছ হলে বেশ হত। শরীরের যাবতীয় সাঁতার খুলে দেওয়া যেত ওই প্রবালের সৌম‍্যকান্ত নগরে। জলের নিচে নক্ষত্র, জলের ওপরে নক্ষত্র। মাছ জলের পাখি। নারকোল পাতার মতো ডানা আসুক আমার শরীরে . . .  রাধানগরের সাদা তীরভূমি সাগরমহুয়ার মহিমায় ঝিমঝিম করে। শ্বেতাঙ্গিনীদের গোলাপী স্তনে বালি ঝরে। তারা সোনালি চুলের গুচ্ছ খুলে ছড়িয়ে রাখে শরীরের বহুপঠিত গ্ৰন্থির মতো।  বিকেল হলে কাঁকড়ার দল বেরয়। অসংখ‍্য ঘাসের মতো। গর্ত থেকে গর্তের দিকে ছুটে যায়। টান দেয় একে অপরকে। তবু রূপ, অনন্ত আর সমুদ্রের দিকে যায় না। ঢেউ এলে গর্তে ঢোকে, পাছে ভেসে যায় . . .  বিখ‍্যাত উপমা বলে কাঁকড়ার সঙ্গে বাঙালির মিল আছে। যদিও এ সংবাদ কাঁকড়ারা জানে না।  সমুদ্রের শান্ত কিনারে বিপুল সমুদ্রের কিনারে জেলেদের নৌকার মতো ভেঙেচুরে বসে থাকলে বোঝা যায়, এ জীবনে কতটা অপচয় হল। কতটা সময় নষ্ট হল ঢেউয়ের বনের অন্ধকারে― অনেক কিছু করব ভেবে, কিছুই না করে। এখানে ভূমি নেই, শুধু টুকরো চিন্তার মতো দ্বীপপুঞ্জ। কোথাও আন্দামান, কোথাও নিকোবর, কোথাও জ...

আকাশ মুখার্জীর কবিতা

  নাবিক   একাকিত্বের কুয়াশার মধ্যে বুঁদ হয়ে  আমি অদ্ভুত কিছু শুনেছিলাম...  হয়ত সেই শব্দ ছিল  কোনো আর্তনাদ করা নাবিকের কান্নার।  র‍্যাডার বিহীন জাহাজ শুধু সমুদ্রের লাথি খাচ্ছে এবং সেই দূঃসাহসিক গর্জন বারবার তাকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলছে।  নাবিক শুধু একা এবং হাতে তার কম্পাস।  কম্পাসও বিশ্বাসঘাতকতা করছে,  প্রকৃতির সাথে হাত মিলিয়ে  সর্বস্বান্ত করে দিতে চাইছে নাবিককে।  ঝড় থেমে যায়।  সমুদ্রের কোনো আজব দেশে চলে যায় নাবিক  যেখানে অক্টোপাসও কালি ছেটাতে পারেনা  আর হাঙরও নিজের দাঁত দেখাতে পারেনা।  আমার ঘুম ভাঙে।   

অরিত্র চ্যাটার্জির কবিতা

নানা রঙের কবিতা  ১ জল পিছিয়ে আসছে এমত তোমার যা কিছু স্খলন ঈষৎ সবুজভাব গাভীর মত বিস্তৃত করেছে নিঃসঙ্গতা স্নানাগারের সমস্ত ইন্দ্রিয় তা জানে ২ কাগজ থেকে ফুলটুকু  যে অতি সন্তর্পণে বাদ দিয়েছিল সেই সিপিয়াসর্বস্ব মেয়েটি  বাগানে তার স্বপ্ন লিখে রাখছে এখন সাদাকালো দাবার বোর্ডে  সবুজ আপেল এলোমেলো গড়ায় যেন সাম্প্রতিক নয় তবু কোন কমলা মাংসের ঘ্রাণ  বেয়ে রোমকূপ থেকে উঠে আসছে সাপ আর ফিসফিস করে তোমায় বলছে   "বিশ্বাস কর,  এসব-ই আসলে সত্যি”…

দীপঙ্কর মুখার্জির কবিতা

মালা তোমার জন্যে গাছে ফুল ফোটালাম তার পাপড়ি আঁকলাম লাল, আর  করঙ্গ ভরে গন্ধ দিলাম ঢেলে তুমি সূঁচ এনে তার বুকে ফোটালে তারপর,  মালা গাঁথা শেষ করে গলায় পরালে গৃহ দেবতার আমি আবার ফুল ফোটাই, গন্ধ ঢালি, ওদিকে তোমার সিংহাসনে  দেবতা বেড়েই চলে রোজ তোমার দু'হাত ভর্তি সূঁচ-সুতো-ব্লেড...

রাজর্ষি দে-র কবিতা

হেমন্তের ঘোড়া শহরে হেমন্ত আসে না  তবু আমরা ঘোড়া ঘোড়া খেলি  চেতকের শ্বাস জমে যায়  শানবাঁধা মাটি জুড়ে  চাবুকের গতি জানে হাওয়ার বেইমানি ছেনালি বাতাস পেয়ে  ধুকপুকি থেমে যেতে পারে  ************* অনন্ত গোধূলি অগণিত মানুষ একসঙ্গে একলা বসে আছে  চরাচর জুড়ে  খুব কাছের দৃশ্য আমরা দেখতে পাই না  সম্পূর্ণ পাই না  তাই এই একাকিত্ব জরুরি  আমরা এক অন্যকে বুঝে নিচ্ছি  কয়েকশো শতাব্দী ধরে  আরো কিছু শতাব্দী এভাবেই কেটে যাবে  একদিন সূর্য ঠাণ্ডা হয়ে যাবে  ততদিন টিকে গেলে  অনন্ত গোধূলি জুড়ে  মানুষ ঘরে ফিরবে

মিঠুন চক্রবর্তীর কবিতা

একটি শীতের কবিতা শেষ বিকেলের গোলাপরাঙা ডুবন্ত আলোটিকে জড়িয়ে ধরতে চাইছে যে ক্লান্ত কুয়াশা আমি তাকে চিনি রাতের ঘুমন্ত শহরে আঙুল ধরে কতবার  তাকে পার করে দিয়েছি অন্ধ রেললাইন এখন তো ভরা শীত। আমারও সমস্ত ডানা খসে পড়েছে। মা একদিন রাতে সেইসব ডানাকে শুকনো পাতা ভেবে  যেই উনুনে দিয়েছে, আকাশ জুড়ে চোখ জুড়ানো ফুল ফুটেছে....লক্ষ কোটি আমি সেই কুয়াশাকে চিনি, আর চিনি এই আকাশ ভরা ফুল বৃক্ষজন্মের কান্না আমার লুকিয়ে রাখো কে ?