সুব্রত মণ্ডলের কবিতা
বাইশবাঁকির চাঁদ
আমাদের সমস্ত কুয়াশা হারিয়ে গেছে পোয়াতি কাঁঠাল গাছের নিচে। বসন্তের প্রথম পাতা আসার বহু আগেই, নরকের দরজা খুলে এগিয়ে গেছে ভোর। সাথে সাথে তোমার বুড়ো আঙুলও, যুবতী সেজে দিবালোকে বেরিয়ে এসেছে প্রকাশ্য রাস্তায়। আর তুমি সামন্ত রুম স্প্রে মাখা তপতপে বিছানায় শুয়ে ধ্বজভঙ্গ স্বামীটির বুকে মাথা রেখে এক এক করে উপড়ে তুলে আনছ স্বর্গের সিঁড়ি। একদিন এভাবেই আমাদের সমস্ত পচাগলা আলাপ সোনা হয়ে গিয়েছিল। সমস্ত মিথ্যা সহানুভূতি গলে পবিত্র হয়ে গিয়েছিল।
আমাদের আর কখনো দেখা হোক বা না হোক আমি নিশ্চিত যে অষ্টমীর সন্ধ্যায় একটি নরম সাদা রাজহাঁস, তার পূর্ব পুরুষের আদলে ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে তোমাকে জানিয়ে দেবে, বিগত প্রায় একবছর ধরে জন্মান্ধ প্রেমিককে চোরাবালিতে লুকিয়ে রাখা সত্ত্বেও কিভাবে সে সমস্ত পালক পরিত্যাগ করে একদিন পিতা হয়ে ওঠে। তুমি আরও জানবে যে, জরায়ুতে সিস্ট থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ তিন বছর পরে কিভাবে একজন বুভুক্ষু প্রেমিকা ধীরে ধীরে মা হয়ে ওঠে। তার নিরপরাধ অমাবস্যা রঙের ঠোঁট তোমাকে মনে করিয়ে দেবে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সমস্ত সন্ধ্যাকালীন অভিমান আর খুনসুটি। দীপ্ত সেই হাঁসের প্রতিটি পায়ের ছাপে ফুটে উঠবে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অহংকার।
পারমিতা, আমরা দুজনে কেউই ভালো থাকব না কোনদিন, তবুও ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে লেদুস মাছের মত একদিন শিখে নেবো বেঁচে থাকার সমস্ত কৌশল। তোমার মা জ্যোতিষীর পরামর্শে প্রতি বছর ঘটা করে তামার ডুমরা বেঁধে দিয়ে আসবে পুড়ে যাওয়া হাতে। তারপর চণ্ডী মন্দিরের চাতালে ধূপ আর সিঁদুর দিয়ে আমার মৃত্যু কামনায় উপোস করে বসে থাকবে সারাদিন। আর আমি দূর থেকে পাগলের মত, উস্কোখুস্কো চুলে হাত বুলাতে বুলাতে এসব দেখব, সবশেষে পশ্চিম দিকের উঠোনে ঝুঁকে থাকা বৃদ্ধ কুজলা গাছে দুটো পাকানো লাল সুতা বেঁধে দিয়ে আসব —আমাদের ভালোবাসা এবং ভবিষ্যতের মঙ্গল কামনায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন