অর্পণের কবিতা
পেরেক
এবার মরলে হাতুড়ি হব। এই পেরেক-জন্ম আর ভালো লাগে না। কিছুদিন আগে বসবার ঘর থেকে আমাকে আনা হল শোবার ঘরে।
আসতে চাইনি। তবুও...
ভোঁতা মুখটা জোর করে গেঁথে দেওয়া হল পশ্চিমের দেওয়ালে। ক্যালেন্ডারের বদলে ঝুলিয়ে দেওয়া হল নবদম্পতির ফোটোফ্রেম।
ঘরটার বেশ মিষ্টি একটা গন্ধ আছে। আলো আছে, আনন্দ আছে। কিন্তু রোজ বিকেলে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে যখন গান গায় মেয়েটা, ওর উদাস চোখের মায়া আর সম্মোহনী স্বরের জাদুতে আমার লোহার শরীরও মোমের মতো নরম হয়ে আসে। মেয়েটারও কি আমার মতো কোনও অতীত আছে?
যখন বসবার ঘরে থাকতাম, ক্যালেন্ডারটা প্রচণ্ড হাওয়ায় দুলে উঠলে, আমার বুক ভয়ে কাঁপত। এই বুঝি একটা অঘটন ঘটল! তবুও ঝড়ের শেষে সেখানেই থেকেছি স্বেচ্ছায়, স্বচ্ছন্দে। দেওয়াল আঁকড়ে।
আজ আর ঝড়ে পড়ে যাওয়ার ভয় নেই। কিন্তু মেয়েটার গান শুনলেই মনে হয়, আমি যেন দেওয়াল উপড়ে কোথাও ফিরে যেতে চাইছি। মেয়েটাও কি তাই?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন