মোহিত তন্ময়ের গুচ্ছকবিতা
বিষণ্ন জ্যোৎস্নার পৃথিবী
১.
যতটা আলো আমাদের শরীরে বিশ্বাস তৈরি করে, তার অধিক অন্ধকার। আমাদের ভাঙা টর্চ, ভিজে ব্যাটারির ফাঁপা জীবন, তিন টাকার ইতস্ততবোধ -- কীভাবে আজ ধূসর পৃথিবীতে আরও একটি কবিতা লিখে ফেলার মতো যথেষ্ট বেকারত্ব দিচ্ছে !
২.
ঘুমের শরীরে চক টেনে কেউ একজন প্রসস্থ পথ এঁকে দিল। অপয়া পথিকের ছায়ায় পৃথিবীর সমস্ত রাজপথ এখন গতিহীন, গন্তব্যহীন। পরিত্যক্ত মদের বোতলের ভিতর রাত থেমে আছে। একটা মাঝবয়সী মেঘ চাঁদ ওঠার সম্ভাবনা চিরতরে নিভিয়ে দিল। জ্যোৎস্না খেতে হারিয়ে গেল যে-শিশুটি তার শরীর ভর্তি অন্ধকার। নিখোঁজের সময়, পরনে ছিল, ছেঁড়া ঘুড়ির জামা ও ধূসর মেঘের প্যান্ট।
৩.
প্রেম লেগে নেই, দু-ফোঁটা আদর গদ হয়ে লেগে আছে, আত্মহত্যার কথা মাথায় এলে এমন এক গাছের কাছে এসে দাঁড়াই,
ফুল নেই
ফল নেই
শুধু শুকনো পাতা খুঁজে নিচ্ছে একটি ছিঁড়ে যাওয়া প্রেমের সম্ভাব্য ভ্রমণ ...
৪.
বেঁচে থাকার ভয়। বাঁচিয়ে রাখার ভয়। এমন কিছু আলগা ভয়ের গভীরে আমাদের পা বহুদিন হাঁটতে ভুলে গেছে। জুতো ও মোজার স্বপ্নে একটি পথ স্থানীয় বেশ্যাখানা পর্যন্ত গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন অন্ধকার আকাশ চিরে দিলেই বেরিয়ে আসবে, ডানাভাঙা পাখিদের সঙ্গম, আদিগন্ত বিস্তৃত জলজ শীৎকার, ভোরের রেলস্টেশনে রক্তাক্ত প্রেমিকের লাশ। শুধু একটি চিলেকোঠাই ভালো ছিল, ধ্বংসের দিনগুলোতে যে আমাকে শুধুই প্রয়োজন -অপ্রয়োজনের হিসেব বুঝিয়েছে !
৫.
পুড়ে যাওয়া ব্যার্থ চিৎকারের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েটিকে বলেছিলাম- তোমায় সারারাত চুমু খাব। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে মেয়েটিকে কথা দিয়েছিলাম- তোমার আঁচলের নীচে আমাদের শীতঘুম হবে।
মেয়েটি নেই, বহুদিন হলো সে হারিয়ে গিয়েছে। শ্মশানের ভিতর মেয়েটি এখন কান্না হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তার শিরায় বিষাক্ত নীল স্রোত।
প্রিয়তমা, আমার পৃথিবীতে এখনো সন্ধ্যে হয়, শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে। হাসি কান্না পাশাপাশি জড়াজড়ি করে বসে, দাঁত জানতেই পারে না একটা হিংস্রতা কতদূর একা হেঁটে গেলে প্রেম হয়ে যায় !
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন