সায়ক দাসের গদ্য

ক্ষনজন্মা
সায়ক দাস

একটা রাত হিসেবমতো ঠিক আমাদের বার্ধ্যক্যের মতো হয়। প্রলেপ আনে সাদা আলেয়ার স্তর। ঠিক ছোটোবেলায় চাঁদকে দেখতাম, ছুটে চলতো আমাদের সাথে, আমাদের মতো করে। আমাদের পুরোনো বাড়ির জানলায়  এসে আটকে যেত বেয়াদব আলো। আমাদের সেই পুরোনো বাড়িতে ছিল খিলান, উঁচু-উঁচু ঘর, জানলা, স্বপ্নের মতো ছিল বাবা-মা-কাকা-জ্যাঠা, ছিল শান্ত চালে চলে যাওয়া বৃদ্ধ ঠাকুমার সাদা অস্তিত্ব। ছিল দূরন্ত মাঠ, গাঙপাড়ের সন্ধ্যা, ধান কাটার গান।

আমার মা খাবার বেড়ে দিত রোজ, মৃত্যুর আগে অবধি। ভাঙা শরীরে, কাঁপা পা-এ। শৈশবের শেষ দিন অবধি মা আমাকে ছেড়ে দেয়নি, ফেলে দেয়নি অস্তিত্বহীনতার সংগ্রামে। প্রতিটা ঘুমহীন রাত কতটা কালো হয়, মায়ের আলো তা বুঝতে দেয়নি কোনোদিন, আমার বড় হওয়া অবধি। 

এখন বাড়ি দেখলে মায়ের কথা মনে পড়ে। আমাদের দ্বিধাজন্মের মতো বাড়ি থেকে ঝুলে থাকে লতার অংশ, সন্তানের মতো বেঁধে রাখে মৃতপ্রায় বাড়িটাকে। আমাদের ছোটোবেলায় ঠিক যেভাবে মা আমাদের আগলে রাখতো। 

আমার মায়ের কাছে ফেরা হয়নি। হয়নি বলেই এই বাড়িতে ফিরে আসি বারবার, দেখি আমাদের ছেলেবেলার বৃদ্ধ চাঁদ ক্লান্ত হয়ে বসে আসে বড় জানলার এককোণে। আর ঠিক চার হাত দূরেই আকাশে উড়ে যাচ্ছে আমার শৈশব, মা আর আমাদের ছেলেবেলার বাড়ি

আদতে, ভালবাসারা ক্ষনজন্মা হয়।

মন্তব্যসমূহ

পাঠকপ্রিয়

সেলিম মণ্ডলের গুচ্ছকবিতা

সোনালী চক্রবর্তীর কবিতা

সৌমিতা চট্টরাজের কবিতাগুচ্ছ

সৌভিক গুহসরকারের কবিতা

মধুমিতা রায়ের কবিতাগুচ্ছ