পঙ্কজ চক্রবর্তীর কবিতা
শেষরাতের ছায়া
রচনাপদ্ধতির মতো তুমিও দিনের শেষে অনেক অতৃপ্তির রং নিয়ে বাজারে এসেছ। তখনও ধানিজমির বুক চিরে তৈরি হয়নি রেলব্রিজ। দু-একবার সামান্য মাপজোখের খবর পেয়ে বসেছে দোকান। নিরপেক্ষ খাপ পঞ্চায়েত। তারপর জমির দাম বাড়তে শুরু করল রাতারাতি। পাকা রাস্তা। ছোটো টিকিট ঘর। দিনে রাতে চার পাঁচটা ট্রেন দাঁড়ায়। বন্ধ টিকিট কাউন্টারের পাশে সন্ধ্যার জুয়ার আসর থেকে উঠে এল এই অঞ্চলের প্রথম যুবনেতা। তুমি সেই বাড়ির ছোটোবউ। লেখাপড়াও জানো। তবুও অতৃপ্তির রং মেখে খুলেছি দোকান। তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চাইছি অবলুপ্ত জমির রহস্য।আজ এতদিন পর পাখির খাঁচায় বসে ব্যর্থ প্রেমের অপরাধ স্বীকার করতে এলাম। স্টেশন মাস্টার, আপনার চোখের ভিতরে সামান্য পথের হদিস পেলে আমি বেরিয়ে পড়ব আজ রাতে।রেলব্রিজের ওপারে সাড়ে নটার শেষ বাস।
ধুলোধোঁয়ার ভিতর পড়ে রইল মাত্র বারো বছরের একটা ভাঙাচোরা দোকান।এইসব রচনাপদ্ধতি নিয়ে একদিন খুঁজে পাবে ফাঁকা বোয়ামের অসুখ। তোমার অনর্থক হাসির ভিতর জন্ম নিচ্ছে অদৃশ্য একটা শহর।অন্ধকার গলিতে গর্ভপাতের সুলভ ক্লিনিক। এই এক ঘুমন্ত মরশুম। যখন বিষণ্ণ ওড়নার ভিতর শুয়ে থাকে চায়ের দোকান, জুয়ার আসর,মেয়েদের হোস্টেলে জ্বলে ওঠে আগুন শরীর।
ধারাবাহিক
একটা মানুষের কথা বলতে এসে আমাকে পেরোতে হল ছক ভাঙা উপন্যাস - জটিল আখ্যানের রীতি ও পদ্ধতি । চরিত্র ছিটকে গেছে লবনাক্ত খাঁড়ির সন্দেহে। শুকনো পাতার তুমি কে হে? মুখের আগুন ভাষাতীত। আলো হাওয়ার দেশে বিকেলের মেঘ। তোমার কুমারী গর্ভে রেখে আসি প্রথমবিষাদ,শিয়াল- কুমীরের গতজন্মের বোঝাপড়া।
একটা মানুষের কথা বলতে এসে পেরোলাম শ্যাওলা উঠোন,খোলা বাথরুম। পলিথিনের ফাঁক দিয়ে রোদ্দুর পড়েছে বুকে পীঠে। দেখি খোলা স্তনের অবৈধ ছায়াসঙ্গম।সন্তান বিরহে অর্ধ উন্মাদের মতো বেরিয়ে আসে নপুংসকের তৃতীয় গৃহিনী। মনে মনে আগুনকে অভিশাপ দেয়। নবীন কিশোরের ভিজে গেঞ্জির বুকে এঁকে দেয় মাতৃপ্রবাহ।
সেই নদীটির কথা বলা হল। তার বালির গর্ভে মৃতপ্রায় মানুষের কথা। একদিন ভোরে ভেসে ওঠে লাশ,কচুরিপানা মাখা হলুদ যোনির ফসল। হে সাহিত্যসম্রাট,অপরাজেয় কথাশিল্পী সকল, বঙ্গসাহিত্যে উপন্যাসের ধারা ,প্রণম্য শিল্প উৎপাদক আমার ধারালো শিশ্ন আজও পড়ে আছে অগাধ সমুদ্রের জলে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন