আমৃত্যু ১ জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে টস হলে মৃত্যুই বারবার জিতে যায়। পছন্দ মতো মাঠে নামে। তারপর ট্রফি নিয়ে চলে যায় বাড়ি... ২ একটি লাশ কালো কাপড়ে মোড়ানো থাকবে না সাদা কাপড়ে সেটা ঠিক করে দেয় রাষ্ট্র। তবে যে কাপড়েই মোড়ানো থাক মুখ দেখা যায় না। ৩ কারো যোনি কাটা, কারো স্তন কাটা, কারো জিভ কাটা... সবাই একই মিছিলে; আমাদের ঠিক করে নিতে হবে কে জীবিত, কে মৃত, কে খুনি, কে ধর্ষক... ৪ চুপ থাকাটাই শ্রেয়, না হলে তার ঝকঝকে দাঁতে লেগে থাকা টকটকে রক্ত দেখা যাবে... ৫ প্রতিটি সিরিয়ালে মিডিয়া অথবা প্রশাসন সফল অনুবাদক। বীজ সমস্ত সম্ভাবনার ভিতর তুমিই গাছ রোদ শিকার করবে বলে স্বীকার করে ফেলছ ছায়া ছায়া, তোমার থেকে বড়ো জেনেও, তুমি পাতায় পাতায় ডালে ডালে আত্মমগ্ন ধ্যান ভাঙবে বলে আবার নিঃশব্দে রোপণ করছ বীজ
অনতিক্রম্য দূরত্ব, একটিমাত্র শব্দ, অগণিত কবিতার জন্ম দিতে দিতে, যার কখনো নিজেকে অতিক্রম করা হয় না। যোগিনী অমা মর্ত্যের উর্বশী যখন ক্লিভেজের উল্কি নিপুণ করতে মনোযোগী, প্রতিসরণ কোনে আলো কোথায় ছিটকালে, আমলা... গোলাম হবে, আমি ইষৎ বিষন্ন, হয়তো রক্তমাংসের গুনে প্রতিশোধ মাপি। তারপর এক শ্মশান যাপন আসে, স্রোত ফিরে গেলে তটভূমি ধারণ করে যোগীয়া নিরপেক্ষতা। ব্রক্ষকুম্ভে ধুনি জ্বলে, কমলবনে সারস্বত ছায়া, আর রমনসুখ তুচ্ছ করে কবিতা নাজিল হয়।
আর যাই হোক কবিতা নয়... ১. ডিসেম্বর আসলেই কুয়াশা হয়ে যাবে আমার সমস্ত অপারগতা। এখন নভেম্বর, আপাতত বিপ্লব হচ্ছে। বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু আমি এখনো কবি নই। বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু এখন কবি ইজ ইকুয়াল টু শূকরীর প্রসব মাইনাস ভারতমাতার ঊরুসন্ধি। বিপ্লব হচ্ছে যেহেতু আমার এখনকার প্রেমিকের প্রাক্তন প্রেমিকার নাম ছিলো কবিতা... বিছানায় তুলতে পারে নি তাই বাজারে নামিয়ে ছেড়েছে। ২. অপ্রকাশিত বলে কোনো কিছু বাকী নেই আর। কি দেবো তোমাকে হে তরুণ কবি! আইবুড়ো গর্ভগৃহ! রন্ধনশাল! মনে রেখো, তুমি শালা গার্হস্থ্য খেদানো কুকুর, মা হয়ে রোদ খালি আগলে রাখে... তোমার ছায়া, তোমার আড়াল। ৩. কথা হচ্ছিল মৃত্যু দৃশ্য নিয়ে। দুই আঙুলের দূরত্ব বাড়িয়ে জুম করলাম ছবিটা। বিলিতি ব্র্যান্ডের বোতল, একের অধিক পুরুষ আর টালমাটাল হরফ সাঁতরে রবীন্দ্রনাথ উৎরোতে চাইছি আমি... যথারীতি সাংস্কৃতিক শামুকে পা গেঁথেছে আমার। অতএব দৃশ্যটার বাইরে বেরোতে পারছি না দু'আঙুলের দূরত্ব কমাতেও পারছি না। ৪. ভাবমূর্তি নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন তোলেন যারা তাদের সামনে পোশাক খুলে দাঁড়াতে লজ্জার কি আছে আর! বরং ভয় পাও হাত পা জিভ খুলে দাঁড়াতে...
রাধানগর ঘরে শুধু নুন আর জল, তবু এ অন্নপূর্ণা সমুদ্রিকার রূপের শেষ নেই। এইখানে, সাদা বালির চরে বসে মনে হয়, মাছ হলে বেশ হত। শরীরের যাবতীয় সাঁতার খুলে দেওয়া যেত ওই প্রবালের সৌম্যকান্ত নগরে। জলের নিচে নক্ষত্র, জলের ওপরে নক্ষত্র। মাছ জলের পাখি। নারকোল পাতার মতো ডানা আসুক আমার শরীরে . . . রাধানগরের সাদা তীরভূমি সাগরমহুয়ার মহিমায় ঝিমঝিম করে। শ্বেতাঙ্গিনীদের গোলাপী স্তনে বালি ঝরে। তারা সোনালি চুলের গুচ্ছ খুলে ছড়িয়ে রাখে শরীরের বহুপঠিত গ্ৰন্থির মতো। বিকেল হলে কাঁকড়ার দল বেরয়। অসংখ্য ঘাসের মতো। গর্ত থেকে গর্তের দিকে ছুটে যায়। টান দেয় একে অপরকে। তবু রূপ, অনন্ত আর সমুদ্রের দিকে যায় না। ঢেউ এলে গর্তে ঢোকে, পাছে ভেসে যায় . . . বিখ্যাত উপমা বলে কাঁকড়ার সঙ্গে বাঙালির মিল আছে। যদিও এ সংবাদ কাঁকড়ারা জানে না। সমুদ্রের শান্ত কিনারে বিপুল সমুদ্রের কিনারে জেলেদের নৌকার মতো ভেঙেচুরে বসে থাকলে বোঝা যায়, এ জীবনে কতটা অপচয় হল। কতটা সময় নষ্ট হল ঢেউয়ের বনের অন্ধকারে― অনেক কিছু করব ভেবে, কিছুই না করে। এখানে ভূমি নেই, শুধু টুকরো চিন্তার মতো দ্বীপপুঞ্জ। কোথাও আন্দামান, কোথাও নিকোবর, কোথাও জ...
বাতাস এমনিতে এখন তুমি নিরুত্তাপ,চুপচাপ একটুকরো বাতাস এলে হঠাৎ কেন যে চৌকাঠ হারায় হে কেশ, আমার সাথে কথা বলো... ...... জীবন দিনের মাথায় যেন তুলো চৌকাঠ আপন করেছি বলে দূরে ঠেলে দেই ভয় করে বালিশ ভিতরে গেলে যদি উঠে আসে প্রাণ! ...... ক্রোধ প্রাচীন যখন বলে, দেওয়াল চেপে ধরলে গলা আটকে দাও তবু বের করো বিষ, না হলে দৌড়াও সাবধান! মাথার ধমনী বশ এ কোন মায়াবী? জাদু জানে ....... মেঘ হে ঈশ্বর, চুপ থাকো একটু সরে সরে যাও। যেন রং পাল্টে যায়। যাতে অভিমান কথা বলে .......... ধোঁয়া আনন্দে বিষাদ মিশে লিখে লিখে রেখে হাসি পায় তায় চোখের নেশাটি তাপে বাষ্প হয়ে যায় কে যে ধোঁয়া বেঁধে রাখছে সুতো দিয়ে!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন