অচিন্ত্য রায়ের কবিতা
হেমন্তের বেখেয়ালী উঠান
(১)
জোয়ার চলছে হেমন্ত মাঠে
বেলা ছোট হয়ে আসে, আর
কৃষকের ছায়া বেড়ে যায়...
(২)
শালিকের ডানায় ঘামের ভার
শালুকের নীলফুল একান্ত মেঘ
ধূলোর গুমোট থেকে উড়ে যায়
গতজন্মের ধানময় পাপ...
(৩)
কাঁধের ফোলা আবে রেখেছি হাল
নাঙলের ঈষ নেচে ওঠে
মাটির বাত, বাতের মাটি
আমার ভেতরে মাতাল অক্ষর লেখে...
(৫)
ঘাস চুঁচে পাক খায় ঘূর্ণি হাওয়া
টায়ার তাড়িয়ে ফেরে কিশোর
ইংলিশ প্যান্ট, ফুটো প্যকেট
সেখানে হেমন্তের ধূসর আশ্রয়...
(৬)
কাস্তেকে বড়ই মায়াময় লাগে
শানিত শরীর নিয়ে জেগে থাকে
ক্ষেত কাঁদে, আয় আয় ডাকে
তাঁকে নিশীথ ভোররাতে
হালায় হালায় শুয়ে যায় মাঠ...
(৭)
ভোররাতে শিশির মাখতে মাখতে
কোলাহল নেমে আসে স্রোতে
পরিশ্রমের নির্জন স্রোত
যেখানে জলখাবারের গামছা
জড়িয়ে থাকে খিদের সংসার...
(৮)
বাঁশপাতার বাঁশি বাজিয়ে সন্ধ্যারা হেঁটে যায়
অর্ধেক চাঁদ আটকে আছে বটপাতায়
তখনও ব্যস্ত আল, গাড়ির লিক
ভূতের দল, খাসের গলা পেঁচিয়ে
সাজিয়ে রেখেছে সারিসারি লাশ...
(৯)
আমশখা, ঘট, মায়ের আলতা শাড়ি
আগো ধান গেরস্থ সন্তান
লক্ষ্মীর চরণ কেটে ঘর আসে
বাজে কাঁসর ,শাঁখ
আমার জন্ম যেনও বিহ্বল
ভাঁজময় সুতির এক গামছা...
(১০)
আমি ফিরে যাই খয়েরি আলে
মৃত্যুর কাছে বসি আড় হয়ে
আমি- জন্মের কাঙাল। ঈশ্বর
যদি জন্ম দাও, আবার ফিরিয়ে নিও
এমনই প্রদীপের শিখায় জেগে থাকা
ধানের গোলার আঁচলের কাছে....
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন