সোহম চক্রবর্তীর কবিতাগুচ্ছ
সেই কথাটাই ফেলছে লিখে
ভিতর ভিতর একটা কথাই ঘুরছে কেবল,
ধুলোর মতো আটকে যাচ্ছে ঘূর্ণিপাকে –
রাস্তা দিয়ে হাঁটছি যখন দিব্যি মানুষ,
একটা কথাই হাত-পা ছুঁড়ছে,
দাঁত ক্যালাচ্ছে, গলার নলি শক্ত চেপে
ঘাতক থাবা বলছে কেবল,
‘আমায় লেখো, আমায় লেখো’
কিন্তু যখন লিখতে বসছি,
ছিঁড়ছি-খুঁড়ছি, দৌড়ে মরছি,
ভিতর ভিতর সেই কথাটাই, ধন্যি মেয়ে
‘ধাপ্পা’ বলেই কোন্ খোপে এক মুখ লুকোচ্ছে –
ভিড়ের মধ্যে মানুষ-জোড়া আঠার মতোন
কোন্ এক টানে আটকে যাচ্ছে গলায়, বুকে,
হাত জড়াচ্ছে, পা জড়াচ্ছে, কথায় কথায়
জড়িয়ে পড়ছে যখন-তখন দিব্যি মানুষ,
সেই সুযোগে
আমার কথা, আমার লাইন
ফেলছে লিখে ঘাতক থাবা
ভিতর ভিতর!
***************
অশান্তি
বাবার সাথে মায়ের তুমুল অশান্তি হয়।
বাজারথলি, ঘামফতুয়া, ব্যাঙ্কের বই –
তোলপাড় সব, কারোর কিছু ভাল্লাগেনা...
ছলকে ওঠে রাগের বহর চায়ের কাপে;
বন্ধ কথা, চুপচাপ ঝিম সন্ধে হলে
বাথরুমে যায় বাবার গলা, রবীন্দ্রগান –
ডাঁই ফাইলের মধ্যে গোঁজা কোন্ সে চিঠি
বের করে মা আলতো হেসে চুল বেঁধে নেয়...
‘দ্যাখ তো বাবু, আজ কী খাবে, লিকার না দুধ’
এ ঘর থেকে ও ঘরে যায় খুনসুটিরাগ –
তারপর সব মান অভিমান এক টেবিলে
গান হয়ে যায়, এমনতরো অশান্তি সব
তোমায় ভেবে জমিয়ে রাখি, হে প্রেমিকা।
**************************
চাকা
দীর্ঘ অসাক্ষাতে
আরও বেশি চোখে পড়ে বড়ো হ’য়ে ওঠা
সেসব দেখার মতো যৌথপরিবার
ভেঙেচুরে গেলে
দেহ নয়, যেন এই দেহের অসুখ –
মুখময় বলিরেখা, চামড়ার ভাঁজ
বড়ো হ’য়ে ওঠে
এবারে ন্যুব্জ হই, ছোটো হ’তে থাকি...
দূর থেকে চোখে পড়ে অসাক্ষাতে ফের
বড়ো হ’য়ে ওঠা
ফুলে-ফলে ভ’রে ওঠা সন্ততিদের
সুখ নয়, দুঃখ নয় – দীর্ঘ অসাক্ষাতে
চোখে পড়ে যেন এক
বিরাট জীবন
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন